২০০৩ সালের বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের পারফরম্যান্সের ব্যাপারে জেনে নিন

সেপ্টে. 21, 2023

No tags for this post.
Spread the love

Team India. (Photo Source: Michael Steele/Getty Images)

২০০৩ সালের বিশ্বকাপে ভারত খুব ভালো পারফরম্যান্সের প্রদর্শন করেছিল। এই বিশ্বকাপে ভারত ফাইনাল পর্যন্ত যেতে সক্ষম হয়েছিল। তবে সেখানে তারা অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজিত হয়েছিল।

২০০৩ সালের বিশ্বকাপে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী। এই বিশ্বকাপটি দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং কেনিয়া মিলে আয়োজন করেছিল। এটির ফাইনালে ভারতকে হারানোর মাধ্যমে তৃতীয়বারের জন্য ওডিআই বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

১. ভারত বনাম নেদারল্যান্ডস (ম্যাচ ৭)

IND vs NED. (Photo Source: Clive Mason/Getty Images)

এই ম্যাচটিতে ভারত ৬৮ রানে জয় পেয়েছিল। প্ৰথমে ব্যাটিং করে স্কোরবোর্ডে ৪৮.৫ ওভারে ১০ উইকেটে ২০৪ রান তুলেছিল ভারত। সচিন তেন্ডুলকার দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন। তিনি ৭২ বলে ৫২ রান করতে সক্ষম হয়েছিলেন। টিম ডি লিড ৯.৫ ওভারে মাত্র ৩৫ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নিয়েছিলেন।

ভারতের বোলিংয়ের দাপটে নেদারল্যান্ডসের ইনিংস মাত্র ১৩৬ রানে শেষ হয়ে গিয়েছিল। ডান ভ্যান বুঞ্জ ১১৬ বলে ৬২ রান করেছিলেন। জাভাগল শ্রীনাথ এবং অনিল কুম্বলে যথাক্রমে ৯.১ ওভারে ৩০ রান এবং ১০ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ৪টি করে উইকেট নিয়েছিলেন। এই ম্যাচে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন টিম ডি লিড।

২. ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া (ম্যাচ ১১)

IND vs AUS. (Photo Source: Michael Steele/Getty Images)

এই ম্যাচটিতে ভারত লজ্জাজনকভাবে হেরেছিল। সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বাধীন দল প্ৰথমে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ১২৫ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল। সচিন তেন্ডুলকার এবং হরভজন সিং যথাক্রমে ৫৯ বলে ৩৬ রান এবং ৩২ বলে ২৮ রান করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এছাড়া ভারতের আর কোনও ব্যাটার ২০ রানের গন্ডি পার করতে পারেননি।

ব্রেট লি এবং জেসন গিলেস্পি ৩টি করে উইকেট শিকার করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়া ২২.২ ওভারে ১ উইকেটে ১২৮ রানে পৌঁছে ম্যাচটি জিতে নিয়েছিল। গিলেস্পিকে এই ম্যাচে ম্যাচসেরার পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।

৩. ভারত বনাম জিম্বাবুয়ে (ম্যাচ ১৭)

IND vs ZIM. (Photo Source: ALEXANDER JOE/AFP via Getty Images)

এই ম্যাচটি ভারত ৮৩ রানে জিতে নিয়েছিল। ভারত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৫ রান করেছিল। সচিন তেন্ডুলকার ৯১ বলে ৮১ রানের একটি অসাধারণ ইনিংস খেলেছিলেন। গ্রান্ট ফ্লাওয়ার খুব ভালো বোলিং পারফরম্যান্সের প্রদর্শন করেছিলেন। তিনি ৬ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে ২টি উইকেট নিয়েছিলেন।

রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৭২ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। তাদের দলের কোনো ব্যাটারই ৩০ রানের গন্ডি টপকাতে পারেনি। সৌরভ গাঙ্গুলী ৩টি উইকেট শিকার করেছিলেন। জাভাগল শ্রীনাথ, জাহির খান এবং হরভজন সিং ২টি করে উইকেট পেয়েছিলেন। সচিন তেন্ডুলকারকে এই ম্যাচে ম্যাচসেরার পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।

৪. ভারত বনাম নামিবিয়া (ম্যাচ ২৫)

IND vs NAM. (Photo Source: KIM LUDBROOK/AFP via Getty Images)

এই ম্যাচটিতে ভারতীয় দল অনেক বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। প্ৰথমে ব্যাটিং করতে নেমে স্কোরবোর্ডে ৫০ ওভারে ২ উইকেটে ৩১১ রান তুলেছিল। সচিন তেন্ডুলকার এবং সৌরভ গাঙ্গুলী দুজনেই শতরান করেছিলেন। সচিন ১৫১ বলে ১৫২ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে গিয়েছিলেন। সৌরভ ১১৯ বলে ১১২ রান করে অপরাজিত ছিলেন। রুডি ভ্যান ভুরেন ২টি উইকেট পেয়েছিলেন।

নামিবিয়া রান তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছিল এবং মাত্র ১৩০ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল। যুবরাজ সিং ৪.৩ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ৪টি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। সচিন তেন্ডুলকার এই ম্যাচে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন।

৫. ভারত বনাম ইংল্যান্ড (ম্যাচ ৩০)

IND vs ENG. (Photo Source: Tom Shaw/Getty Images)

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও জয়ের ধারা বজায় রাখতে পেরেছিল ভারত। সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বাধীন দল ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৫০ রানে পৌঁছতে পেরেছিল। রাহুল দ্রাবিড় দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন। তিনি ৭২ বলে ৬২ রানের একটি সুন্দর ইনিংস খেলেছিলেন। অ্যান্ডি ক্যাডিক ৩টি উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছিলেন।

আশিস নেহেরার দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে ইংল্যান্ড ১৬৮ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল। অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ ৭৩ বলে ৬৪ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেছিলেন, কিন্তু দলকে ম্যাচটি জেতাতে পারেননি। নেহেরা ১০ ওভারে মাত্র ২৩ রানের বিনিময়ে ৬টি উইকেট নিয়েছিলেন এবং ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন।

৬. ভারত বনাম পাকিস্তান (ম্যাচ ৩৬)

IND vs PAK. (Photo Source: Nick Laham/Getty Images)

এই ম্যাচটিতে পাকিস্তানকে ৬ উইকেটে পরাজিত করেছিল ভারত। পাকিস্তান প্ৰথমে ব্যাটিং করে স্কোরবোর্ডে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৭৩ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিল। সৈয়দ আনোয়ার ১২৬ বলে ১০১ রানের একটি দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলেছিলেন। জাহির খান এবং আশিস নেহেরা ২টি করে উইকেট পেয়েছিলেন।

এই ম্যাচটিতে সচিন তেন্ডুলকার ৭৫ বলে ৯৮ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেছিলেন। যুবরাজ সিং ৫৩ বলে অপরাজিত ৫০ রান করেছিলেন। ২৬ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটে ২৭৬ রানে পৌঁছে ম্যাচটি জিতে নিয়েছিল সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বাধীন দল। এই ম্যাচটিতে সচিনকে ম্যাচসেরার পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।

৭. ভারত বনাম কেনিয়া (সুপার সিক্স – ম্যাচ ২)

IND vs KEN. (Photo Source: Patrick Eagar/Patrick Eagar via Getty Images)

এই ম্যাচটিতে ভারত ৬ উইকেটে জয় পেয়েছিল। কেনিয়া ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২২৫ রান করতে সক্ষম হয়েছিল। তাদের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন কেনেডি ওতিয়েনো। তার ব্যাট থেকে ১৩৪ বলে ৭৯ রান এসেছিল। জাভাগল শ্রীনাথ এবং হরভজন সিং ২টি করে উইকেট নিয়েছিলেন।

সৌরভ গাঙ্গুলীর শতরানের হাত ধরে এই ম্যাচটিতে জয় পেয়েছিল ভারত। সৌরভ ১২০ বলে ১০৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন। যুবরাজ সিংও ভালো রান পেয়েছিলেন। তিনি ৬৪ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের একটি দারুণ ইনিংস খেলেছিলেন। টমাস ওডোয়ো ২টি উইকেট শিকার করেছিলেন। সৌরভ এই ম্যাচটিতে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন।

৮. ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা (সুপার সিক্স – ম্যাচ ৪)

IND vs SL. (Photo Source: Michael Steele/Getty Images)

ভারতীয় দল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এই ম্যাচটিতে ১৮৩ রানে জয় পেয়েছিল। সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বাধীন দল ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৯২ রান করেছিল। সচিন তেন্ডুলকার ১২০ বলে ৯৭ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। বীরেন্দ্র সেহওয়াগ এবং সৌরভ গাঙ্গুলী যথাক্রমে ৭৬ বলে ৬৬ রান এবং ৫৩ বলে ৪৮ রান করেছিলেন। মুথাইয়া মুরলিধরন ৩টি উইকেট নিয়েছিলেন।

শ্রীলঙ্কার ইনিংস মাত্র ১০৯ রানে শেষ হয়ে গিয়েছিল। জাভাগল শ্রীনাথ এবং আশিস নেহেরা যথাক্রমে ৯ ওভারে ৩৫ রান এবং ৭ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ৪টি করে উইকেট শিকার করেছিলেন। জাহির খান ২টি উইকেট নিয়েছিলেন। শ্রীনাথকে এই ম্যাচে ম্যাচসেরার পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।

৯. ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড (সুপার সিক্স – ম্যাচ ৭)

IND vs NZ. (Photo Source: Mike Hewitt/Getty Images)

নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে পরাজিত করেছিল ভারত। প্ৰথমে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ১৪৬ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। জাহির খান অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সের প্রদর্শন করেছিলেন। তিনি ৮ ওভারে ৪২ রানের বিনিময়ে ৪টি উইকেট নিয়েছিলেন। হরভজন সিং ২টি উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছিলেন।

ভারত ৪০.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ১৫০ রানে পৌঁছে ম্যাচটি জিতে নিয়েছিল। মহম্মদ কাইফ এবং রাহুল দ্রাবিড় যথাক্রমে ১২৯ বলে ৬৮ রান এবং ৮৯ বলে ৫৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন। এই ম্যাচে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন জাহির খান।

১০. ভারত বনাম কেনিয়া (দ্বিতীয় সেমিফাইনাল)

IND vs KEN. (Photo Source: Michael Steele/Getty Images)

সুপার সিক্সের পর সেমিফাইনালেও কেনিয়াকে হারিয়েছিল ভারত। প্ৰথমে ব্যাটিং করে স্কোরবোর্ডে ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৭০ রান তুলেছিল ভারত। সৌরভ গাঙ্গুলী ১১৪ বলে অপরাজিত ১১১ রানের একটি দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলেছিলেন। সচিন তেন্ডুলকার ১০১ বলে ৮৩ রান করেছিলেন।

কেনিয়া রান তাড়া করতে নেমে ৪৬.২ ওভারে ১০ উইকেটে ১৭৯ রান করতে সক্ষম হয়েছিল। জাহির খান ৩টি উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। আশিস নেহেরা এবং সচিন তেন্ডুলকার ২টি করে উইকেট পেয়েছিলেন। সৌরভ গাঙ্গুলী এই ম্যাচটিতে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন।

১১. ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া (ফাইনাল)

IND vs AUS. (Photo Source: Nick Laham/Getty Images)

ফাইনালে এসে আর জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে পারেনি ভারতীয় দল। অস্ট্রেলিয়া ৫০ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ৩৫৯ রান করেছিল। রিকি পন্টিং ১২১ বলে অপরাজিত ১৪০ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেছিলেন। ড্যামিয়েন মার্টিন ৮৪ বলে ৮৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন। হরভজন সিং ২টি উইকেট নিয়েছিলেন।

ভারত রান তাড়া করতে নেমে ২৩৪ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল। বীরেন্দ্র সেহওয়াগ ৮১ বলে ৮২ রানের একটি সুন্দর ইনিংস খেলেছিলেন, কিন্তু তা দলের জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। গ্লেন ম্যাকগ্রা ৩টি উইকেট শিকার করেছিলেন। রিকি পন্টিংকে এই ম্যাচে ম্যাচসেরার পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।

The post ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের পারফরম্যান্সের ব্যাপারে জেনে নিন appeared first on CricTracker Bengali.

Subscribe to Telegram
শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি বিশ্বকাপ! প্রারম্ভিক একচেটিয়া উপহারের জন্য এখনই MCW-তে সদস্যতা নিন!
অ্যাটলেটিকো ডি মাদ্রিদ আনুষ্ঠানিক আঞ্চলিক পার্টনার হিসাবে মেগা ক্যাসিনো ওয়ার্ল্ড (MCW) ঘোষণা করেছে।
বুন্দেসলিগা ইন্টারন্যাশনাল এশিয়ার মেগা ক্যাসিনো ওয়ার্ল্ডের সাথে একটি আঞ্চলিক অংশীদারিত্বে সম্মত হয়েছে
প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস SA20 এর দ্বিতীয় সিজনের জন্য প্রধান অংশীদার হিসাবে মেগা ক্যাসিনো ওয়ার্ল্ডকে ঘোষণা করেছে
Mega Casino World Anrich Nortje কে নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ঘোষণা করেছে
MCW Sports Joins Gladiators’ Family as Platinum Sponsor for PSL8
MCW Sports - Ambassador